স্মরণে…
হুমায়ূন আহমেদের সাথে আমার একবারই দেখা ও আলাপ হয়েছিল। বোধহয় ৯৭/৯৮ সালে। ইউএসএ’র কোথায় একটা, হয়ত ফিলাডেলফিয়া, ওখানে বঙ্গ সম্মেলন হচ্ছে। সম্মেলন মঞ্চের কাছাকাছি একদিন সকালে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের সাথে দেখা। সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান হবে, সেজন্য তিনি চলেছেন মঞ্চের দিকে। আমাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এসে কথা বললেন। তাঁর সাথে একজন ভদ্রলোক। সমরেশ বাবু আলাপ করিয়ে দিতে বললেন, “ইনি সুমন। আর ইনি বাংলাদেশের বিখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ”।ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে হাত জোড় করে বললেন, “দাদা, মার্জনা করবেন। আমি কোন সাহিত্যিকই নই। সাহিত্যিক হলেন সমরেশ দা। আমি বাংলাদেশের নিতান্ত এক বেস্ট সেলার লেখক। সাহিত্য করি না, বেস্ট সেলার লিখি”।কথা গুলো উনি বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললেন। কোন আদিখ্যেতা ছাড়া, কন্ঠে কোন রকম আরোপিত আবেগ বা বিনয়ে গদগদ ভাব না এনে। এরকম সোজাসাপ্টা কথা বাঙ্গালিদের মুখে শুনি না সচরাচর।আজ এত বছর পরেও প্রতিটি শব্দ মনে আছে, মনে আছে মানুষটির মুখ। ঢাকার এক তরুণ আমাকে তাঁর লেখা “নন্দিত নরকে” পড়িয়েছিলেন, কোনদিন ভুলবো না, চমকপ্রদ।আরো পরে হুমায়ূন আহমেদের তৈরী কিছু নাটকের ভিডিও দেখেছি। কি রসবোধ, কি হিউমার। ব্রিলিয়ান্ট। অসামান্য। ওনার টিভি নাটকের সমতুল্য কোন কিছু অন্তত পশ্চিমবঙ্গে আমি দেখিনি তেমন। আদ্যন্ত সৃজনশীল এক মানুষ। গত ৫০ বছরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বাঙালি ও উপমহাদেশীয় ব্যক্তিদের অতি সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও হুমায়ুন আহমেদ স্থান পেতে বাধ্য।





























