সোশ্যাল মিডিয়া বা লোকের মুখে মুখে কবীর সুমনের গানটি নিয়ে কম শোরগোল হয়নি। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘জাতিস্মর’ ছবিতে সেই গান, ‘এ তুমি কেমন তুমি…’-র দৌলতেই আজ জাতীয় পুরস্কার ঝুলিতে পুরলেন রূপঙ্কর বাগচী। তাঁকেই বিচারকরা সেরা পুরুষকণ্ঠ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিচারকদের মতে, ছবির বিষয়বস্তুকে সমৃদ্ধ করেছে রূপঙ্করের আবেগঘন কণ্ঠে ওই গান।
কেমন লাগছে পুরস্কার পেয়ে? “ভাল। তবে গান রেকর্ড করার সময়ে সেটা ভাবিনি। সুমনদার জন্যই বাংলা গান করতে আসা। আর তার পরে ওঁর সঙ্গে কাজ করতে পেরে ভাল লেগেছে। মনে হচ্ছে, যে ভাবে উনি গানটা গাইতে বলেছিলেন, তাতে ভাল হয়েছে।”
আরও তিনটি পুরস্কার পেয়েছে ‘জাতিস্মর।’ ছবির গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক কবীর সুমন। বিচারকদের চোখে বাংলার বিভিন্ন বর্গের গানকে উপযুক্ত কণ্ঠ, বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে পরিবেশনের জন্য তিনি পুরস্কৃত। কী বলছেন কবীর সুমন?
“সৃজিতের জন্য আমি গর্বিত। ও প্রকাশ্যে বহুবার বলেছে, নানা মহল থেকে চাপ তৈরি করা হয়েছে যাতে আমি এই কাজটা করতে না পারি। তা সত্ত্বেও ও আমাকে সুযোগ দিয়েছে।” সঙ্গে বললেন, “তোমাকে চাই থেকে শুরু করে যে সব শ্রোতা ধারাবাহিক ভাবে আমার গান শুনে আসছেন, আমার অহেতুক লাঞ্ছনা দেখে কষ্ট পেয়েছেন, তাঁদের জন্য আজ আমার ভাল লাগছে।” এর সঙ্গেই ছবিতে সেরা পোশাক পরিকল্পনার জন্য সাবর্ণী দাস এবং অভিনেতা প্রসেনজিতের মেক আপের জন্য সেরা মেক আপ শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন বিক্রম গায়কোয়াড়।
এতগুলো পুরস্কার পেয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত ‘জাতিস্মরে’র পরিচালক। মায়ামি থেকে ফোনে সৃজিত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রথমত, কবীর সুমনের জন্য আমি খুশি। তা ছাড়া সব চেয়ে বেশি জাতীয় পুরস্কারের রেকর্ড রয়েছে ‘সোনার কেল্লা’র, পাঁচটি।
আর এখন অবধি চারটি পুরস্কার পেয়েছে মৃণাল সেনের ‘আকালের সন্ধানে’, ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘আবহমান’, এবং অনিরুদ্ধের ‘অন্তহীন।’ সেই সারিতে এ বার জুড়ল ‘জাতিস্মর।’ সেটা ভাবলেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।”
সৌজন্যেঃ আনন্দবাজার পত্রিকা





























