Search
Close this search box.

এই শতাব্দীর…

১৯৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর, কলামন্দির প্রেক্ষাগৃহে বিংশ শতককে বিদায় জানাচ্ছেন সুমন!!

আমি সেই অমর লোকগুলোকে মনে করছি, মনে করছি পিটার সিগারকে।
One blue sky above us
One ocean lapping all our shore
One earth so green and round
Who could ask for more
And because I love you
I’ll give it one more try
To show my rainbow race
It’s too soon to die.
And because I love you
প্রথমত আমি তোমাকে চাই
I’ll give it one more try
দ্বিতিয়ত আমি তোমাকে চাই
To show my rainbow race
এই শতাব্দির একজন অন্তত এই বিচিত্র মানবজাতিকে রেইনবো রেস বলেছেন। বন্ধুরা, মনে মনে আসুন একবার আমরা উঠে দাড়াই এই ঋষির জন্য, মনে মনে দাড়ালেই হবে। এই বিচিত্র নানান রঙের মানুষ জাতি আমার, তাকে একজন অন্তত বলতে পেরেছেন রেইবো রেস, আমার রঙধনু জাতি।
এই শতক বেঁচে থকবে, শত পেপসিকোলা, শত স্যাটেলাইট টিভির প্রচার, শত বিশ্বভঙ্গ সন্মেলন, শত কেউ, শত ফ্রাঞ্চাইজ এ শতককে খতম করতে পারবে না; এ শতককে খতম করা যাবে না, কেননা এখানে একজন অন্তত বলতে পেরেছে
And because I love you
I’ll give it one more try
To show my rainbow race
দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই
শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই
Ah remember me, I used to live for music
I brought your groceries in
First we take Manhattan, then we take Berlin
Hey, that’s no way to say good bye (Leonard Cohen)
নিঝুম অন্ধকারে আমি তোমাকে চাই…

এই শতাব্দি দেখেছে জিমি হেন্ড্রিক্সকে। কত অল্প বয়সে মারা গেলেন অতিমাত্রায় মাদক নিয়ে, তবু জিমি হেন্ড্রিক্স-এর শতাব্দি ছিলো এটা।
এই শতাব্দি দেখেছে রবীশংকরকে; রবীশংকর-এর তৈরী ‘রসিয়া’ রাগটিকে। এই শতাব্দি রবীশংকরের শতাব্দি।
এই শতাব্দি দেখেছিলো এক নিঃসঙ্গ গায়ককে, যিনি বক্সার ছিলেন একসময় পরে গায়ক হন।
I see a little bird sitting in a tree top
A preety little bird sitting in tree top
I see a little bird sitting in a tree top
A preety little bird sitting in tree top
I see a little bird sitting in a tree top
A preety little bird sitting in tree top
I see a little bird sitting in a tree top
A preety little bird sitting in tree top
ন্যাট কিং কোল… ন্যাট কিং কোল-এর শতাব্দি ছিলো।

এই শতাব্দি ছিলো এক অদ্ভুত কন্ঠওয়ালা লোকের,
“চৈত্র দিনের ঝরাপাতার পথে
দিনগুলি মোর কোথায় গেলো?”
এই শতাব্দি ছিলো পঙ্কজ মল্লিকের। এই শতাব্দি ছিলো,
‘মুক্তির মন্দির সোঁপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান
লেখা আছে অশ্রুজলে,
কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা
বন্দীশালা ঐ শেকল ভাঙা…”
এই শতাব্দী ছিলো কৃষ্ণ চন্দ্র দে-র।
‘আজ তারা কি ফিরবে না আর
আজ তারা কি ফিরবে এই সুপ্রভাতে
কত তরূণ অরূণ গেছে অস্তাচলে।
মুক্তির মন্দির সোঁপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান
লেখা আছে অশ্রুজলে…”
এই শতাব্দি ছিলো কৃষ্ণ চন্দ্র দে-র…

এই শতাব্দি ছিলো এক উদ্ভট লোকের…
Oh. where you have been, my blue-eyed son?
And where have you been my darling young one?
I’ve steeped in the middle of seven sad forests
I’ve been out in front of a dozen dead occeans
I’ve been ten thousand miles in the mouth of a graveyard.
I’ve been ten thousand miles…
লোকটার নাম বব ডিলান, লোকটা এখনো বেঁচে আছেন। এই শতাব্দি বব ডিলানের।

এই শতাব্দি ছিলো এক উদ্ভট লোকের, বাবরী করা চুল, দরকার হলে সোনাগাছিতে যেতো, হো হো করে হাসতো, পান খেত, পানের পিক পড়তো হারমোনিয়ামে, আর গাইতো,
“তোরা সব জয় ধ্বনি কর
ওই নূতনের কেতন ওড়ে
কালবোশেখীর ঝড়
তোরা সব জয়ধ্বনী কর।
ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?
প্রলয় নতুন সৃজন বেদন
আসছে নবীন জীবন হারা
অসূন্দরে করতে ছেদন”।
এই শতাব্দিতে গান তৈরী করে গেছেন কাজী নজরুল ইসলাম আর গান গেয়ে গেছেন, এই গানটা গিরীণ চক্রবর্তী। এই শতাব্দি কাজী নজরুল ইসলাম এবং গিরীন চক্রবর্তীর শতাব্দী।

এই শতাব্দী ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে’-র শতাব্দি। এই শতাব্দিতে গান গেয়েছেন আব্বাস উদ্দিন। এই শতাব্দিতে গান গেয়ে গেছেন আব্দুল আলিম। এই শতাব্দিতে গান গেয়ে গেছেন উদ্ভট উদ্ভট লোক, মহা ক্ষ্যাপাটে সব লোক,
“যা খুশি ওরা বলে বলুক
ওদের কথায় কি আসে যায়
ওরাই রাতের ভ্রমর হয়ে …”
অসাধারণ নাট্য সম্পদকে আধুনিক বাংলা গানে ধারণ করতে পারতেন যিনি তিনি এই শতাব্দির লোক, যে শতাব্দি শেষ হবে আর কিছুক্ষনের মধ্যে, আমার তাতে কাঁচকলা আসে যায়। আমি এই শতাব্দির মানূষ, আজীবন এই শতাব্দির মানূষ থাকবো, এই শতাব্দি ছিলো নচীকেতা ঘোষের শতাব্দি, স্বচ্ছন্দে যিনি তৈরী করতে পারতেন,
“না না না আজ রাতে আর যাত্রা শুনতে যাবো না
শুনেছি চৌধুরী পাড়াতে না কি বসেছে আসর
এসেছে কলকেতার-ই নামকরা এক নাট্য কোম্পানী”…

এই শতাব্দি এক উদ্ভট শতাব্দী, একটা অদ্ভুত লোক এসে গান গাইতো, একটু একটু নাকে নাক লাগতো,
“সেই বাসর নেই বাঁশরী নেই
ভোর যে হয়ে গেলো…”
আমার মতে এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আধুনিক বাংলা গানের শিল্পী ছিলেন শ্যামল মিত্র, আর কেউ না শুধু শ্যামল মিত্র আর কেউ না।
“সেই বাসর নেই বাঁশরী নেই
ভোর যে হয়ে গেলো…”

যদি একজন, একজন স্বার্থকভাবে আধুনিক বাংলা গান গেয়ে থাকেন পরিপূর্ণ সুরে, তার অনিবার্যতায়, তার উচ্চারণে, তার সূর প্রক্ষেপনের অনিবার্যতায়, তিনি ছিলেন শ্যামল মিত্র।
“কি হলো রে জানো, পলাশী ময়দানে
নবাব হারালো পরাণ…”
প্রথমত আমি তোমাকে চাই
“কি হলো রে জানো… কি হলো রে জানো…”
দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই…

হে ঈশ্বর, তুমি নেই তাই জানো না, নয়তো জানতে আমার সমস্ত অস্তিত্বের মধ্যে শুধু গান ঘুরে বেড়ে পড়েছে। বন্ধুগন আমি কোনদিন বিবাহ করিনি, আমি কোনদিন সন্তান জন্ম দেইনি, আমি এই শতাব্দির মানুষ, স্নান করেছি বাংলা গান এবং পৃথিবীর সমস্ত সমস্ত ভাষায় তৈরী গান। আমি আজ সবকিছুর নিকুচি করি, নিকুচি আপনাদেরও, নিকুচি পার্টি পলিটিক্স, নিকুচি করি এই রাষ্ট্রের, নিকুচি করি এই পৃথিবীর। আমি শুধু গানের গোলাম আর কিছুই চাই না, এই শতাব্দি গানের শতাব্দি ছিলো, আমি এই শতাব্দির মানুষ বন্ধুরা।
এটা উদ্ভট শতাব্দি ছিলো, এই শতাব্দিতেই এসেছিলো একটা লোক, সে হঠাৎ,
“তোমার ভূবনে মাগো এত পাপ
এ কী অভিশাপ, নেই প্রতিদান…”
অদ্ভুত কন্ঠ…
“মিথ্যার জয় আজ…”
এই শতাব্দি ছিলো হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের শতাব্দি।
এই শতাব্দি ছিলো উদ্ভট উদ্ভট লোকের শতাব্দি।
“ও গো আমার মলিন চির উদাস, আনমোনা”-র শতাব্দি
“সুরের বেদান, দূরের খেলায়
সুরের বেলা, কিসের এত ঢেউ গোনা”-র শতাব্দি।
এই শতাব্দি ছিলো গীতা দত্তের শতাব্দি।

এই শতাব্দি ছিলো,
“জানে ভালে সিপাই ছে পুছো
ভো কাঁহা জা রাহা হে…
জানে ভালে সিপাই ছে পুছো…”
এই শতাব্দি ছিলো যুদ্ধ বিরোধিতার শতাব্দি, মোহাম্মদ রফির শতাব্দি ছিলো এটা।
“জানে ভালে সিপাই ছে পুছো
ভো কাঁহা জা রাহা হে…”
এই হিন্দিটাকে চাই আমাদের, বোম্বাই ফিল্মের ঐ জুহি চাওলাদের হিন্দি না, এই হিন্দিটাকে চাই, এই বাংলাটাকে চাই,
“শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই
নিঝুম অন্ধকারে তোমাকে চাই…”
এই শতাব্দি ছিলো সূমন চট্যোপাধ্যায় নামের এক অদ্ভুত ভিসির শতাব্দি।
সকালের কৈশোরে তোমাকে চাই
সন্ধ্যের অবকাশে তোমাকে চাই।

এই শতাব্দি ছিলো কলকাতা নামের একটা উদ্ভট শহরের শতাব্দি যেখানে মানুষ আশ্চর্যভাবে উদার। আশ্চর্যভাবে এক মধ্যবয়স্ক গায়ককে যে গিটার নিয়ে স্টেজে উঠে আসে আর ‘বয়স আমার মুখের রেখায় শেখায় আজো ত্রিকোণমিতি” গায়, তাকে ভালোবেসে তুলে নিতে পারে। এই শতাব্দি কলকাতার শতাব্দি।
“নিঝুম অন্ধকারে তোমাকে চাই
রাত ভোর হলে আমি তোমাকে চাই
সকালের কৈশোরে তোমাকে চাই
সন্ধ্যার অবকাশে তোমাকে চাই
কবেকার কলকাতা শহরের পথে
পুরোনো নতুন মুখ ঘরে ইমারতে
অগুনতি মানূষের ক্লান্ত মিছিলে
অচেনা ছুটির ছোঁয়া তুমি এনে দিলে।

একটা উদ্ভট ছুটির শতাব্দি ছিলো এটা। উদ্ভট ছুটি!
ছুটি নিয়েছিলো বাঙালী জাতি তার শ্লথতা থেকে, তার যাজ্ঞ থেকে। ছুটি নিয়েছিলো হঠাৎ, ছুটি নিয়ে এক হাজার বছরের ইতিহাসে বাংলা ভাষার, বাংলা ভাষার স্বাধিনতা সংগ্রাম হইয়েছিলো পূর্ব বঙ্গে। এই শতাব্দি বাঙালী জাতির সার্বভৌম পরিচয়ের শতাব্দি। এই শতাব্দি বাংলাদেশের জন্মের শতাব্দি। এই শতাব্দি বঙ্গবন্ধুর শতাব্দি। এই শতাব্দি খালেদ মোশাররফ-এর শতাব্দি। খালেদ মোশাররফ যিনি ক্যু-তে ব্যর্থ হলেন, যিনি ধর্মান্ধ একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে, নেতাকে, এক ধর্মান্ধ নেতাকে পেছন ফিরিয়ে বসিয়ে, এক হিন্দু সেপাইকে দিয়ে পাছায় লাথি মারিয়েছিলেন। খালেদ মোশাররফ, খালেদ মোশাররফের শতাব্দি ছিলো এটা। আমরা ভারতেও খালেদ মোশাররফ-এর মতো মানুষ চাই। যারা ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে পেছন থেকে লাথি মারেন, কথা বলেন কম, লাথি। এই শতাব্দি ছিলো এক আশ্চর্য লাথি মারার শতাব্দি বন্ধুরা,
“লাথি মার ভাঙলে তালা
যতসব বন্দীশালা
আগুন জ্বালা আগুন জ্বালা”-র শতাব্দি…

চৌরাস্তার মোড়ে পার্কে দোকানে
শহরে গঞ্জে গ্রামে এখানে ওখানে…

যেখানে সেখানে প্রেম করার বড় অসুবিধা ছিলো। আমার বাবা মা তাদের যৌবনে ইডেন গার্ডেনস-এ প্রেম করতে যেয়ে পুলশের হাতে ধরা পড়েছিলেন শুনেছি। আমি পুলিশের হাতে ধরা পড়িনি। আমি যখন যুবক ছিলাম, সেকেন্ড ইয়ারে পড়তাম বা ফার্স্ট ইয়ারে, গোলপার্কের ওখান দিয়ে ঢাকুরিয়া ব্রীজ দিয়ে মেয়েদের হাত ধরে গেলে, আমরা যদি হাত ধরাধরি করে যেতাম, ডবলডেকার বাস থেকে লোকে উঁচু হয়ে দেখতো। এই শতাব্দি ছিলো প্রেমের শতাব্দি, আমাদের প্রেম করার শতাব্দি ছিলো এটা।
চৌরাস্তার মোড়ে পার্কে দোকানে
শহরে গঞ্জে গ্রামে এখানে সেখানে…

এই শতাব্দি ছিলো এক উদ্ভট যুবকের শতাব্দি যে স্বচ্ছন্দে লিখতে পারতো,
“অপরের জন্য যুদ্ধ করেছি অনেক
এবার যুদ্ধ তোমার আর আমার জন্য…”

এই শতাব্দি ছিলো সুকান্তর শতাব্দি…

চৌরাস্তার মোড়ে পার্কে দোকানে
শহরে গঞ্জে গ্রামে এখানে সেখানে
স্টেশান টার্মিনাস ঘাটে বন্দরে
অচেনা ড্রইং রুমের চেনা অন্দরে
বালিশ তোশক কাঁথা পুরোনো চাঁদরে
ঠান্ডা শীতের রাতে লেপের আদরে
কড়িকাঠে চৌকাঠে মাদুরে পাপোশে
হাসি রাগ অভিমান ঝগড়া আপোষে
তোমাকে চাই তোমাকে চাই তোমাকে চাই তোমাকে চাই

এই শতাব্দি ছিলো আকুলতার শতাব্দি। ভয়ংকর আকুলতার শতাব্দি। এই শতাব্দি ছিলো চে গুয়েভারা আর তানিয়ার প্রেমের শতাব্দি, তাদের যৌথ সংগ্রামের শতাব্দি। এই শতাব্দির সমস্ত দালালির উর্দ্ধে উঠে এসেছেন চে গুয়েভারা, আর কেউ না, এই শতাব্দির সমস্ত দালালীর উর্দ্ধে উঠে এসেছেন তানিয়ার ভালোবাসা চে-এর জন্য, আর এ্যজমায় ভোগা চে গুয়েভারা যার এ্যজমার ঔষধ এসে পৌছোয়নি ঠিক সময়ে, আজো যে লোকটা লড়াই করতে জানতো… কোমাদান্তে চে…

তোমাকে চাই তোমাকে চাই তোমাকে চাই তোমাকে চাই
এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই
ডাইনে ও বায়ে আমি তোমাকে চাই
দেখা না দেখায় আমি তোমাকে চাই
না বলা কথা আমি তোমাকে চাই
ইলিয়াসের কোন পুরানো নভেলে
হঠাৎ পড়তে বসা আবোলতাবোলে…

আমার গুরু সুকুমার রায়ের শতাব্দি ছিলো এটা। যিনি না লিখলে আমি একটা লাইন লিখতে পারতাম না হে বন্ধুরা। আমার পক্ষে একটা অক্ষর লেখা সম্ভব হতো না, যদিনা সুকুমার রায় থাকতেন। এ শতাব্দি ছিলো “তোর গানে পেঁচিরে, সব ভুলে গেছিরে”-র শতাব্দি।
এ শতাব্দি ছিলো সুকুমার রায়ের শতাব্দি।

ইলিয়াসের কোন নতুন নভেলে
হঠাৎ পড়তে বসা আবোলতাবোলে
অবোধ্য কবিতায় ঠুংরি খেয়ালে
স্লোগানে স্লোগানে ঢাকা দেয়ালে দেয়ালে
সলীল চৌধুরির ফেলে আসা গানে
“আজ তবে এইটুকু থাক”-এর শতাব্দি
“বাকী কথা পরে হবে”-র শতাব্দি
ধুসর ধুলির পথ, ভেঙে পরে আছে রথ
বহু দূর দূর যেতে হবে”-র শতাব্দি।
“সলীল চৌধুরীর ফেলে আসা গানে
পান্না লালের বাঁশি মুখরিত প্রাণে
ভুলে যাওয়া হিমাংশু দত্তর সুরে
সেই কবেকার অনুরোধের আসরে
তোমাকে চাই তোমাকে চাই তোমাকে চাই তোমাকে চাই
অনুরোধে মিনতীতে তোমাকে চাই
বেদনার আর্তিতে তোমাকে চাই
দাবি দাওয়ায় চাহিদায় তোমাকে চাই
লজ্জা দ্বিধায় আমি তোমাকে চাই…

“আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সূষম বন্টন
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণী উচ্ছেদ
এমন সাহসী মন্ত্র সুহাসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লৌকধর্মে আর ভেদাভেদ”

বিংশ শতাব্দি সোনালী কাবিনের শতাব্দি।

অধিকার বুঝে নেয়া প্রখর দাবীতে
সারারাত জেগে আঁকা লড়াকু ছবিতে
ছিপছিপে কবিতার ছন্দে ভাষায়
গদ্যের যুক্তিতে বাঁচার আশায়
শ্রেণীহীন সমাজের সমাজের চিরবাসনায়
দিন বদলের ঘিরে ধরা চেতনায়
দ্বিধা দ্বন্দের দিন ঘোঁচার দাবিতে
বাংলা গানের ডাক ঘুমে জাগরণে
বিক্ষোভে বিপ্লবে তোমাকে চাই
ভীষণ অসম্ভবে তোমাকে চাই
শান্তি অশান্তিতে তোমাকে চাই
এই বিভ্রান্তীতে তোমাকে চাই… 

শেয়ার করুন:

তোমার তুলনা

তোমার তুলনা আমি খুঁজি না কখনো বহু ব্যবহার করা কোনো উপমায় গীতিকার চর্চিত শব্দের ফেনায় তোমার তুলনা কোনোদিন জানবে না।

আরও পড়ুন / শুনুন >

সাবাস পুলিশ

সাবাস পুলিশ সাবাস হাজারবার দুই বছরের বাচ্চাও গ্রেপ্তার।। সেও তো মারল আধলা কিংবা ছুড়লো একটা ঢিল, সেও তো বেজায় জঙ্গি

আরও পড়ুন / শুনুন >