দেখছি শহর তলিয়ে যাচ্ছে
নোংরা আমায় ভয় দেখাচ্ছে
সগ্রি এঁটোর পাহাড় হচ্ছে কলকাতা
পেচ্ছাপেই শহর ভাসছে
ডিজেল ধোঁয়ায় মানুষ কাশছে
যক্ষ্মা আমায় ভয় দেখাচ্ছে কলকাতা
ধাপার মাঠের গন্ধ নিয়ে
চলছি তোমার রাস্তা দিয়ে
নর্দমাতে সাঁতার দিচ্ছে কলকাতা
রুমাল চেপে নাকে মুখে
বাঁচতে চাইছি কপাল ঠুকে
মৃত্যু আমায় ডাক পাঠাচ্ছে কলকাতা
লরির ধাক্কা বাসের গুঁতো
ভাঙা পথে হাঁটার ছুতো
হাঁটছি তোমার জাহান্নামে কলকাতা
তিনশ বছর হাঁটলে তুমি
আমার গানের জন্মভুমি
গান ধরেছি তোমার নামে কলকাতা…
তিন শতকের শহর, তিন শতকের ধাঁধা
সুতানটির পারে নেমে এলো সাহেবজাদা
সাহেব মাশুল নিল নিক্তি মেপে মেপে
সাহেব বাবু বিবি এলো
ফিটন গাড়ি চেপে
মালিক সাহেব গিয়ে গোলাম সাহেব এলো
গেলাম গেলাম বলে শহর
তিনশ বছর হল
তিন শতকের শহর, তিনটি শতক শেষে
ভাবে যুগের বহর
মানাবে কোন বেশে
ভিখিরি না কবি, নাকি দোকানদার
নেতা অভিনেতা পুলিশ কিংবা পাওনাদার
ধোপা নাপিত মুচি ডিগ্রিধারী বাবু
ভিটে ছেড়ে আসা মানুষ পথে খাটায় তাঁবু
নাভির নীচে শাড়ি ইটের নীচে ঘাস
সংস্কৃতির নীচে পড়ে
নব বধূর লাশ
লাশের মত কারা ফুটপাতে ঘুমোয়
নর্দমার জলে কারা
দুপুরে গা ধোয়
বাবু ঘাটের শহর কত ঘাটের জলে
নাকানি-চোবানি খেয়ে
কত কথা বলে
আধুনিকের পাশে হাঁটে আধুনিকা
হটাৎ বিশ্রী গন্ধ
প্রেমে ফেলছে যবনিকা
সমাজসেবী নাকি প্রফেশনাল ভাঁড়
হটাৎ ট্রাফিক আটকে দেয়া
রাজার মত ষাঁড়
তিন শতকের শহর আস্ত গোলকধাঁধা
এখানে পড়েছি আমি সাতটি পাকে বাঁধা
তিন শতকের শহর আস্ত গোলকধাঁধা
এখানে পড়েছি আমি আষ্টে-পৃষ্টে বাঁধা।
সংযোজনেঃ শুভায়ু মজুমদার





























