১৯৯৬ সালের ৭ই মে ছিল ভোট। সেদিন সকালে দক্ষিন কলকাতার কোন একটি পাড়ায় ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটি ছেলে, অতি সাধারণ ঘরের ছেলে ক্রিকেট খেলার তোড়জোড় করছিল রাস্তায়। তাদের বয়েস দেড় থেকে আট বছর। তারা দেখতে পেল রাস্তার পাশে একটা পলেথিন ব্যাগে ৩/৪ টে গোল গোল কি’রম বলের মতই দেখতে, জিনিস পরে আছে। সেগুলোকে বল ভেবে তারা ক্রিকেট খেলা শুরু করলো। ওগুলো আসলে বল ছিল না, ছিল বোমা। সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ, দু’টো ছেলে তাতে মারা গেল। রাজু নামে ছোট্ট একটি ছেলের দু’টো চোখ গেল নষ্ট হয়ে। আর কি আশ্চর্য, দের বছরের একটি বাচ্চা, তার নাম অমিত, সে কিন্তু প্রানে বেঁচে গেল। পরদিন ৮ই মে, স্টেটস ম্যান পত্রিকায় এ ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরন পরে আমি ‘হাউ’স দ্যাট’ এই গানটি লিখি।

বাহবা সাবাস বড়দের দল এইতো চাই
ছোটরা খেলবে আসুন আমরা বোমা বানাই।।
পলেথিন ব্যাগে তিনটে চারটে বোমা পুড়ে
এখানে ওখানে শুইয়ে রাখবো দেশ জুড়ে।।
দেড় থেকে আট বছর বয়সী ছেলের দল
বোমা গুলোকেই ভাববে নেহাত ক্রিকেট বল!!
বাহবা সাবাস বড়দের দল এইতো চাই
ছোটরা খেলবে আসুন আমরা বোমা বানাই।
হাত বোমা নিয়ে ক্রিকেট খেলল কয়েক জন
নিমেষেই ঘটলো ভোটের সকালে বিস্ফোরণ,
খেলতে খেলতে মরল দু’জন বালাইষাট
বস্তির ছেলে বয়েস তাদের সাত কি আট!!
বাহবা সাবাস বড়দের দল এইতো চাই
ছোটরা খেলবে আসুন আমরা বোমা বানাই।।
ছোট্ট রাজুর চোখ দু’টো গেছে হাউ’স দ্যাট!
ভোটের সকালে লজ্জিত শুধু ক্রিকেট ব্যাট! ।।
দেখুন বড়রা, কত কতটা লজ্জা পান…
লজ্জা কিসের বোমা তন্ত্রটা চালিয়ে যান।
দেড় বছরের অমিতের আছে ভাগ্য জোর
বেঁচে গেলি তুই, সঙ্গে রাখিস জীবন তোর।।
বড় হোশ তুই যখন যেখানে যেমন চাস
গানের দোহাই বোমার ভোট এড়িয়ে যাস।।





























